আক্কেলপুরকালাইক্ষেতলালজয়পুরহাট জেলাজয়পুরহাট সদরপাঁচবিবিবৃহত্তর বগুড়া

কালাইয়ের কৃতিসন্তান আব্দুল বারীকে মন্ত্রী করার দাবি

অনলাইন ডেস্ক:

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী কালাই উপজেলার কৃতিসন্তান, সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও সাবেক সচিব মো. আব্দুল বারী–কে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান জয়পুরহাটবাসী।

বিশেষ করে কালাই উপজেলা ও পুরো জয়পুরহাট জেলা জুড়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও মতামত ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, সততা ও দক্ষতার কারণে আব্দুল বারীকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে জয়পুরহাটসহ দেশের কৃষিখাতসহ বিভিন্ন অঞ্চলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাও শক্তিশালী হবে—এমন প্রত্যাশাই তুলে ধরছেন তারা।

ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্যে দেখা যায়, ব্যবহারকারীরা লিখছেন— “কালাইয়ের সন্তান হিসেবে আব্দুল বারীর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা দেশের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি জয়পুরহাটসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।”

জানা গেছে, দীর্ঘদিন সরকারি প্রশাসনে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্যের। সাবেক ডিসি ও সাবেক সচিব হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কাজ করার সুবাদে নীতিনির্ধারণ, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ে তাঁর দক্ষতা স্থানীয় জনগণের কাছে সুপরিচিত।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের অনেকেই মনে করছেন, জাতীয় পর্যায়ে মন্ত্রিত্ব পেলে দেশের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থান খাতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা আরও সহজ হবে।

একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী ফরহাদ হুসাইন ‘Joypurhat-5930 Group’-এ লিখেছেন, “অনেক অনেক অভিনন্দন দেশনেতা তারেক রহমান। বিগত ৩০ বছরে আমাদের জয়পুরহাট–২ আসনে কোনো মন্ত্রী পাইনি। সাবেক সচিব ও ডিসি আব্দুল বারী সাহেবকে আমরা মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই। আমাদের বিশ্বাস, তিনি আমাদের এলাকার উন্নয়ন করবেন এবং দুর্নীতিমুক্ত জয়পুরহাট গড়ে তুলবেন—যেখানে থাকবে সুশাসন ও জবাবদিহিতা।”

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ মাহবুব উল আলম লিটন লিখেছেন,

“দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, সৎ নেতৃত্ব ও এলাকার প্রতি গভীর ভালোবাসার মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যেই জয়পুরহাটের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, তাঁর মেধা ও সততা জাতীয় পর্যায়ে আরও বড় পরিসরে কাজে লাগানো উচিত।”

তিনি আরও লেখেন, জনগণের এই আকুল আবেদন দলীয় নেতৃত্ব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন—এমনটাই তাদের প্রত্যাশা।

ওইসব লেখার উপরে অনেকে তাদের মতামত ব্যক্ত করে অভিনন্দন জানিয়ে  মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাওয়ার দাবি ব্যক্ত করেন ।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আব্দুল বারীকে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণে আরও বৃহৎ পরিসরে কাজ করার সুযোগ পাবেন। যদিও মন্ত্রিসভা গঠন পুরোপুরি দলীয় সিদ্ধান্ত ও জাতীয় রাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর নির্ভরশীল। তবুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জয়পুরহাটবাসীর এই সম্মিলিত প্রত্যাশা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এ বিষয়ে নবনির্বাচিত জয়পুরহাট–২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল বারীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন— “এটি একান্তই দলের প্রধানের সিদ্ধান্ত। তিনি কাকে দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন এবং কাকে দায়িত্ব দিলে দেশের শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে—সে বিষয়টি তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন। এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।”

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট–২ (কালাই,ক্ষেতলা,আক্কেলপুর)

আসনের ১০৫টি ভোটকেন্দ্রে

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর প্রার্থী মো. আব্দুল বারী ধানের শীষ প্রতীকে ১,৫৮,০৬৫ ভোট পেয়ে ৬৫,৫৪৮ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর প্রার্থী এস এম রাশেদুল আলম সবুজ

দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯২,৫১৭ ভোট।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *