সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া
ঢাকা প্রতিনিধি:
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ১ ডিসেম্বর রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদ সভায় নবস্থাপিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র লাইসেন্স অনুমোদন করা হয়।
ড. মোহাম্মদ আয়ুব মিয়া বাংলাদেশের প্রশাসন, নীতি-সংস্কার ও দারিদ্র্য বিমোচন অঙ্গনে এক উজ্জ্বল ও দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব। প্রাতিষ্ঠানিক যাকাত ব্যবস্থাপনা, কৃষি–খাদ্য–শিল্প নীতি সংস্কার, এসএমই উন্নয়ন, ইসলামী মাইক্রোফাইন্যান্স, করপোরেট গভর্ন্যান্স ও দারিদ্র্য হ্রাস কৌশল—এই সব ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা তাঁকে একটি স্বতন্ত্র উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তিন দশকব্যাপী সরকারি সেবাজীবনে তিনি এক বিরল ও সমৃদ্ধ পথচলা অতিক্রম করেছেন। বাংলাদেশ সরকারের ১৫টি মন্ত্রণালয় ও সংযুক্ত দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করার মাধ্যমে তিনি জাতীয় উন্নয়ন, প্রশাসনিক সংস্কার ও নীতিনির্ধারণে অনন্য অবদান রেখেছেন। খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে তাঁর নেতৃত্ব ও বিচক্ষণতা বিশেষভাবে প্রশংসিত। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশনের (এসএমই ফাউন্ডেশন) প্রতিষ্ঠাকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দেশের এসএমই খাতকে শক্ত ভিত গড়ে তোলার অন্যতম স্থপতি তিনি।
সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ইউনিলিভার বাংলাদেশ, রেকিট অ্যান্ড বেনকিজার, অ্যাটলাস বাংলাদেশ, শিল্প ব্যাংক, বাংলাদেশ স্টিল মিলস কর্পোরেশন, বাংলাদেশ সুগার অ্যান্ড ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন, বিসিক, ট্রিপল সুপার ফসফেট কোম্পানিসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বোর্ডে দায়িত্ব পালন করেছেন—যা তাঁর বহুমাত্রিক নেতৃত্বেরই সাক্ষ্য বহন করে।
সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পরও তাঁর কর্মযজ্ঞ থেমে থাকেনি। বরং আরও বিস্তৃত ও মানবকল্যাণমূলক পথে তিনি নিজেকে যুক্ত করেছেন। গত বারো বছর ধরে সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট (CZM)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তিনি যাকাতকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, দারিদ্র্য বিমোচন ও মানবোন্নয়নে অসামান্য ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। CZM-এর মাধ্যমে তিনি যাকাতকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও সংগঠিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে রূপান্তরিত করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি, একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে পিএইচডি, ম্যানচেস্টারের ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধ্যয়নে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা—এসবই তাঁকে গড়ে তুলেছে এক প্রজ্ঞাবান সিদ্ধান্তনির্মাতা হিসেবে। তিনি বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় ও সিভিল সার্ভিস কলেজ লন্ডনে উচ্চতর ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, সুইজারল্যান্ড, চীন, সিঙ্গাপুরসহ বহু দেশে প্রশিক্ষণগ্রহণ ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) এবং বিশ্ব মেধাস্বত্ব সংস্থা (WIPO)-র সম্মেলনে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ তাঁকে দিয়েছে এক বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি।
১৯৫৪ সালের ২ ডিসেম্বর পটুয়াখালীর সবুজ প্রান্তরে জন্ম নেওয়া ড. মোহাম্মদ আয়ুব মিয়া আজ দেশের নীতি–উন্নয়ন, জনসেবা ও মানবকল্যাণের এক অনুপ্রেরণাদায়ক নাম। তাঁর কর্ম, দক্ষতা ও অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও থেকে যাবে আলোকবর্তিকা হয়ে।
