জয়পুরহাটে বহুল আলোচিত হত্যাকান্ড পরকীয়ার জেরে গৃহবধূ সাজেদা হন খুন
জয়পুরহাটে বহুল আলোচিত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শহরের জানিয়ার বাগান এলাকার গৃহবধূ সাজেদা ইসলামকে পরকীয়ার কারণে মুখে কসটেপ, গলায় ওড়না ও হাত-পা বাঁধিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরন করে। গ্রেফতারকৃতরা এ লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দিও দিয়েছেন আদালতে। সোমবার দুপুরে জয়পুরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম এক প্রেসব্রিফিং এ গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য জানান।
প্রেসব্রিফিং এ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা হল, জয়পুরহাট সদর উপজেলার খনজনপুর পূর্বপাড়া গ্রামের আনিছুর রহমানের ছেলে আবু সাঈদ (২৩) এবং একই গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে রাব্বী হোসেন (২২)। উল্লেখ্য জয়পুরহাট শহরের জানিয়ার বাগান এলাকায় ডাঃ পারভীনের ৫তলা বাসায় ছোট মেয়ে আরিফাকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন সাজেদা ইসলাম সাজু। তার স্বামী ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুল ইসলাম সিলেটে চাকরি করতেন। মেয়ে আরিফা স্থানীয় বেসরকারী নর্থ বেঙ্গল মডেল স্কুলে পড়াশোনা করতো। ওই স্কুলে কম্পিউটার অপারেটরের চাকরি করতেন ঘাতক আবু সাঈদ। সেই স্কুলে যাওয়া আসার সুবাদেই ঘাতক আবু সাঈদের সাথে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে সাজেদা ইসলামের। এই সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল।
এরই মধ্যে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে সাজেদা ইসলামের মেয়ে আরিফা খাতুন এসএসসি পরীক্ষা দিতে যায়। সেইদিন আবু সাঈদের সাথে সাজেদার মোবাইল ফোনে কথা হয়। এরপর বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে সাঈদ তার বন্ধু রাব্বী হোসেনকে সাথে নিয়ে ওই গৃহবধুর বাড়িতে আসেন। এ সময় সাজেদাকে বাড়ীতে একা পেয়ে তারা দুইজন তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে চাইলে তিনি বাঁধা প্রদান করেন। তখন আসামীরা সাজেদার মুখে কসটেপ লাগিয়ে, হাত পা বেঁধে এবং গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। ওইদিন দুপুরে তার মেয়ে পরীক্ষা দিয়ে বাড়িতে এসে ঘরের মেঝেতে তার মায়ের লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ বিকেলে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ওই ঘটনায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর গৃহবধুর স্বামী বাদী হয়ে জয়পুরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলার দায়ের করেন।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার পর থেকেই হত্যার আসল রহস্য উদঘাটনের জন্য মাঠে নামেন পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ। ঘটনার পর ওই বাসার অন্যান্য ভাড়াটিয়া, কাজের মেয়েসহ সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এছাড়া নিহতের মোবাইলের কল লিস্ট দেখে একটি নম্বর অনুযায়ী রাব্বিকে সনাক্ত করা হয়। পরে ঘটনার সাথে জড়িত রাব্বী হোসেনকে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা সদরের একটি বাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী তার বন্ধু আবু সাঈদকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তারা দুজন মিলেই ওই গৃহবধূকে হত্যা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন এন্ড অপস্) ফারজানা হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোশফেকুর রহমান, সদর থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম, জেলা ডিবি পুলিশের ওসি শাহেদ আল মামুন, ডিআই-১ কাউসার রহমান, জয়পুরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি এ্যাড. নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল পিপি, সাধারন সম্পাদক রতন কুমার খাঁ সহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
